সাম্প্রতিক
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগের কাজ ‘ফ্যাসিজমের দোসরদের’: ডিএনসিসি প্রশাসক আপস মীমাংসায় প্রথম স্ত্রীর জামিন, গাজী নজরুলের জামিনেও বাদীর আপত্তি নেই কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নির্দেশ গরম বাড়তেই আবারও বেড়েছে লোডশেডিং
Skip to content

এখনও বাস্তবায়ন হয়নি কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ ও নির্দেশনা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ ও নির্দেশনা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং এখনো পুরান ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দুই হাজার কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের রমরমা ব্যবসা চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানায় গত এক দশকে পুরান ঢাকায় একাধিক বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ওসব অগ্নিকান্ডের তদন্ত কমিটিগুলো ওই এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করেছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুপারিশ ও নির্দেশনাই বাস্তবায়ন হয়নি। পুরান ঢাকাবাসী ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পুরান ঢাকার নিমতলীর একটি রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেয়ার নিদের্শ দেন। কিন্তু ওই নির্দেশনার পর এখনো একটি গুদাম বা কারাখানা স্থানান্তরিত হয়নি। তারপর নিমতলী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকান্ড মারা যায় ৭৮ জন। ওই ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে ঘটেছিল। আর গত সোমবার পুরান ঢাকার কামালবাগে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৬ জন মারা গেছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ওসব প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ওসব প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর বা উচ্ছেদ করার বিষয়ে দীর্ঘ সময়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি সরকার। ফলে ওসব কেমিক্যাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিছু দিন পরপরই অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুবই বিপজ্জনক।
সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম-কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই সময় সিটি করপোরেশন কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন বন্ধ করে। কিন্তু এভাবে দীর্ঘসময় কেটে গেছে। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সিটি করপোরেশন পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করতে কোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করতে পারেনি। আর ওই সুযোগে আগের বৈধ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ওসব প্রতিষ্ঠান এখন পুরান ঢাকার জনজীবনের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। পুরান ঢাকার কামালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার এলাকায় দেদার চলছে কেমিক্যাল বিক্রি ও ব্যবহার। গুদাম থেকে ড্রামে করে বিভিন্ন কারখানা ও ফ্যাক্টরিতে কেমিক্যাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এদিকে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের মতে, কেমিক্যাল ব্যবসার জন্য একসময় ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স ছিল। ওই আলোকে অনেকেরই ব্যাংক লোনও রয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন লাইসেন্স নবায়ন না করলে সবকিছু অবৈধ হয়ে যাবে তা হতে পারে না। সরকারকে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ভ্যাট দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল পদার্থ আমদানিও করতে পারছে। কিন্তুমেয়রের কারণে ট্রেড লাইসেন্স হচ্ছে না। পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ব্যবসা অন্য কোথাও স্থানান্তরের আগ পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়া অযৌক্তিক। যখন স্থানান্তর করা হবে ব্যবসায়ীরা তখন ওই এলাকা থেকে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স করে নেবে। গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিলেও পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীদের শোরুম থাকবে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও কেমিক্যালজাতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে তা বাস্তবায়ন শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশা করা যায় দ্রুততম সময়ে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। সরকারের বিধিনিষেধের কারণে সিটি করপোরেশন পুরান ঢাকার কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।