Skip to content

LIVE 21'
Austria
0-0
Jordan
Source: ESPN

আদালতের ব্যতিক্রমী সাজায় আসামি এখন জনপ্রতিনিধি!

বরিশাল আদালতে পৃথক মাদক মামলায় ১২ আসামি দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর জেলে না দিয়ে এক বছরের প্রবেশনে (পরীক্ষাকালীন) মুক্তি দিয়েছিলেন বিচারকরা।

সাজায় তারা গত এক বছর প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থেকে কেউ হয়েছেন জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী আর কেউবা মৎস্যজীবী।

বুধবার বেলা ১২টায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ।

ব্যতিক্রমী এ সাজাকালীন সময়ে মাদক সেবন ও বিক্রির মতো ভয়াবহ কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে অংশ নিয়েছেন মাদক বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডেও। পরিবেশ রক্ষায় লাগিয়েছেন গাছ, ধর্মীয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাধ্যানুযায়ী দান করেছেন। আসামিরা প্রবেশনকালীন সময়ে আদালতের নির্দেশনা মতো জীবন পরিচালনা করেছেন।

এর আগে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ১২ আসামিকে নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক সভা হয়।

বরিশাল জেলার একটি উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া যুবক মোতালেব সরকার (ছদ্দনাম) জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার দায় স্বীকারের পর আদালত আমাকে প্রবেশনে সংশোধনের জন্য পাঠায়। গত এক বছর আদালতের নির্দেশনা মেনে জীবনযাপন করে নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি।

নগরীর বাসিন্দা রফিকুল হাসান (৩৯) বলেন, মাদকসহ আটকের পর আদালত তাকে মাদক থেকে বিরত ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে বলেন। তিনি এখন মাদক সংশ্লিষ্টতা ছেড়ে উজিরপুর উপজেলায় ব্যবসা করছেন।

শরিফুল ইসলাম (৩৩) জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনে একটি কওমী মহিলা মাদ্রাসার নির্মাণকাজে দানসহ মাদক বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মাছচাষ করে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ জানান, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ায় শিগগিরই তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে সমাজে মাথা উচু করে বাঁচতে পারবে। তাদের আর আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরতে হবে না। এসব কাজে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শদান ছাড়াও তাদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

তাদের মাদক বিরোধী কার্যক্রমে আরও গতি আনতে জাতীয় যুব পুরষ্কার প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন আবিষ্কারের উদ্যোগে মাদক বিরোধী শ্লোগান সম্বলিত টিশার্ট ও প্লেকার্ড দেয়া হয়।

—ইউএনবি