সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

সুনছড়া চা-বাগানের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান, বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার করুণ চিত্র

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

ভারতের সীমান্তঘেঁষা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সুনছড়া চা-বাগানে জীর্ণ টিনের ঘরে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দার এই বাগানে ছোট একটি টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ ঘরে, বাঁশ দিয়ে বিভক্ত দুটি ছোট কক্ষে চলছে শিশুদের পাঠদান। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা ১৯৪০ সালে হলেও কাগজে-কলমে ১৯৮০ সাল লেখা।

শিশুদের পোশাকের মতোই স্কুল ভবনের অবস্থাও নাজুক। শিক্ষক আছেন মাত্র ৩ জন, আর শিক্ষার্থী ১৯২ জন। সহকারী শিক্ষক মিটুন কুর্মী জানান, একজন চা-শ্রমিকের সমান দিনে ১৭৮ টাকা মজুরি পাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ মাসে পান মাত্র ১২০০ টাকা সম্মানী।

চা-শ্রমিকদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ তারা ও তাদের সন্তানরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান—সব ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে অবহেলা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, বহুবার স্মারকলিপি ও আন্দোলন করেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জেলায় ৬৯টি চা-বাগান এলাকায় স্কুল থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা। সরকার কেবল পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করে; বাকি সবই অনুন্নত।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম বলেন, এসব বিদ্যালয় সরকারীকরণ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। পার্বত্য এলাকার মতো এখানেও সরকারি করার সুযোগ আছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম বলেন, ১৯৭৭ সালের আইনে প্রতিটি চা-বাগানে একটি স্কুল থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তা নেই। সরকার যদি বৈষম্যবিরোধী নীতিতে বিশ্বাস করে, তাহলে শতবর্ষের এই বৈষম্য দূর করতে অবশ্যই এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।