Skip to content

Upcoming
United States
0-0
Australia
Source: ESPN

র‌্যাবের যৌথ অভিযানে রংপুরের জোড়া খুনের আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

রংপুর ব্যুরো:

র‌্যাবের যৌথ অভিযানে রংপুরের তারাগঞ্জ থানার জোড়া খুনের মামলার আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছে।গতকাল রোববার দুপুরে র‌্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে  জানান,  গত শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে ঢাকার শাহবাগ  শহীদ ওসমান হাদি চত্বর   থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, রংপুর জেলা তারাগঞ্জ থানার দক্ষিণ ঘনিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুপলাল রবিদাস এবং প্রদীপ লাল সম্পর্কে ভাতিজী জামাই। তারা গত ০৯ আগষ্ট/২০২৫ রাতে ভ্যানে করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থেকে বাড়ীতে আসার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ০৫ নং সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে তাদেরকে সন্দেহ করে এলাকার কিছু মানুষ জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে সেখানে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানীয় পাওয়া যায়। সেই পানির গন্ধে উপস্থিত কয়েকজন তাৎক্ষনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাদের ওই সময় রাত ৯ টার দিকে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে লাঠি-সোটা ও লোহার রড দ্বারা গণপিটুনী দিলে একপর্যায়ে রুপলাল রবিদাস এবং প্রদীপ লাল গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়। তাদের অবস্থা আশংকাজনক দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের তারাগঞ্জ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপলালকে মৃত ঘোষনা করেন এবং প্রদীপ লালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। প্রদীপ লাল ১০ আগষ্ট/২০২৫ তারিখ ভোর ০৪ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনায় প্রেক্ষিতে মৃত রুপলালের শ্রীমতি মালতি বাদী হয়ে রংপুর জেলায় তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ার কারণে এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরপর সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এবং র‌্যাব-১০, সদর কোম্পানী, কেরাণীগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানে ২৪ জানুয়ারি/২০২৬ বিকালে ডিএমপি, ঢাকা শাহবাগ থানাধীন শাহবাগ শহীদ ওসমান হাদী চত্ত্বর এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার জোড়া হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার ফরিদাবাদ গ্রামের ইছাহাক আলীর ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান (৩০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র‌্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে তারাগজ্ঞ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ওই মামলায় রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ১২ু জনকে গ্রেপ্তার করে।