সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ মৃত্যু বেড়ে ৮

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে আরও পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হলো। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা যায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ (চমেক) আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন প্রথমে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানান। পরে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—নাছির, মনছুর, রানা ও খোকন। নাছির ও মনছুর সম্পর্কে ভাই।
স্থানীয় জেলেরা জানান, কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যায়। তারা কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখেন, অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন জানান, তিনি তখন কারখানার বাইরে ছিলেন। কারখানা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতাবশত বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন এবং প্রায় তিনজন আহত হয়েছেন। কারখানায় গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, ওই কারখানা থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।’
ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। এসব ইয়ার্ডে অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত তিন শ্রমিক নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন।
এনএনবাংলা/
