সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

খুলনা ওয়াসার ৫৫০ কোটি টাকার এডিবি ফান্ডের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

 

খুলনা ওয়াসা গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে সম্প্রসারণ এলাকাগুলোতে ডিএমএ এবং মিটার পরিষেবা সংযোগসহ পাইপ নেটওয়ার্ক নির্মাণ কাজের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রকল্পটি এডিবি ফান্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এই টেন্ডারের কয়েকটি শর্তাবলি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই কাজের বিষয়ে কিছু মূল্যায়ন শর্তাবলি (যোগ্যতা) এমনভাবে চাওয়া হয়ছে যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই প্রযোজ্য। এই সব আয়োজনের ভিত্তি হলো, তাদের টেন্ডার ডকুমেন্ট ও বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে তাতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বা এডিবির গাইড লাইন অনুযায়ী করা হয়নি। এই কাজের সর্বোচ্চ পাইপের সাইজ ৫০০ এমএম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ৫০০ এমএম কাজের জন্য ১০০০ এমএম কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই রকম শর্ত দেওয়ার কারণ হচ্ছে সন্দেহজনক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই এমন প্রকল্পে ১০০০ এমএম পাইপের কাজ করেছে। তাই এই টেন্ডারে এমন সব শর্ত রাখা হয়েছে যাতে কেবল তাদেরই নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদশে কিংবা অন্যান্য দেশে অভিজ্ঞতা ক্রাইটেরিয়া সাধারণত মূল কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করা হয়। যাতে কাজটি সম্পূর্ণ করার মতো সকল প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এই টেন্ডরে মূল্যায়ন নীতিমালা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বাদ পড়ে যায়। এই মূল্যায়ন এর মাধ্যমে কাজটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং এক ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ধরনের বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াসার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কাজের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। দুর্নীতির মাধ্যমে এই ভাবে টেন্ডার কল করলে দেশের অনেক ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার এমডি মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এটা ফাইল দেখে বলতে হবে। আজকে তো শুক্রবার। আপনি সোমবারে ফোন দিয়েন। ’

এখানে প্রশ্ন উঠে যে, খুলনা ওয়াসার এমডি মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত টেন্ডার নোটিশ পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও বিষয়টি তার নলেজে না থাকার কারণটি কি খামখেয়ালি নয়? তাহলে খুলনা ওয়াসা পরিচালনা করছে কে?

খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। কারণ টেন্ডার দেওয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত নই। আমি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক। টেন্ডার হয়ে গেলে এর মূল্যায়নের কাজে আমি যুক্ত। টেন্ডারে কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে— এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং এমডি ভালো বলতে পারবেন। ’

খুলনা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খান সেলিম আহম্মদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি। মেসেজ দেওয়া হলেও উত্তর দেননি।