গোপালগঞ্জে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ বিদ্যুৎ অফিস

গোপালগঞ্জে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ভোগান্তির পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেন।
চিঠিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ পাওয়ার হাউজ ক্যাম্পাস ও চরপাথালিয়ায় ওজোপাডিকোর দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় বর্তমানে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এর জেরে বিদ্যুৎ দপ্তর, স্থাপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ কিংবা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওজোপাডিকোর দপ্তর ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিয়মিতই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ধরনের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রায়ই পুলিশকে চিঠি দেয়। এবারও তারা চিঠি দিয়েছে। পুলিশের মোবাইল টিম ও টহল দলগুলোকে এসব স্থাপনার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গোপালগঞ্জের বাসিন্দারা। দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অনেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। বয়সের কারণে বৃদ্ধদের সমস্যা আরও বেশি হচ্ছে।
পোস্ট অফিস মোড়ের বাসিন্দা অণিমা বলেন, তাদের দৈনন্দিন জীবন স্থবির হয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার সময় বিদ্যুৎ নেই, ঘুমানোর সময়ও নেই। কখনো আধা ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে লোডশেডিংয়ের প্রভাব
শুধু বাসাবাড়ি নয়, গোপালগঞ্জে লোডশেডিংয়ের বড় প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কলেজ রোডের প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজার জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বাসায়ও থাকা যাচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে পরিস্থিতি খারাপ থাকলেও সম্প্রতি লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সরবরাহ
গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো নির্দিষ্ট হুমকি তারা পাননি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সেবাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা আক্রোশমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ সুপারের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
লোডশেডিংয়ের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ মেগাওয়াট, সেখানে পাওয়া গেছে ৯ মেগাওয়াট। দুপুরে চাহিদা ছিল ১৭ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৯ মেগাওয়াট।
উৎপাদনের সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কিত হওয়ায় লোডশেডিং কতদিন থাকবে, তা বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তবে গত এক সপ্তাহে দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।
গোপালগঞ্জে দীর্ঘ সময়ের এই লোডশেডিংয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার বাসিন্দারা।
এনএনবাংলা/
