ডেমরার করিম জুট মিলে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেটিকস সেন্টার চায় ফেডারেশন
বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেটিকস সেন্টার তৈরির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাব্য স্থান খুঁজতে গত মঙ্গলবার ডেমরার করিম জুট মিল পরিদর্শন করেছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। প্রায় ৬০ একরজুড়ে থাকা মিলের সুবিশাল মাঠকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক মানের একটি অ্যাথলেটিকস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তারা।
ফেডারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, করিম জুট মিলের বিশাল জায়গায় একটি আধুনিক অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণ ও আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসিক ভবন, আধুনিক জিমনেশিয়াম, ড্রেসিং রুম, চেঞ্জিং রুমসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাখার চিন্তা করছে ফেডারেশন।
বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাথলেটদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আবাসন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অ্যাথলেটদের অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্থায়ী অ্যাথলেটিকস সেন্টার তৈরি হলে দেশের অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে ফেডারেশন।
মঙ্গলবার ডেমরার করিম জুট মিল পরিদর্শনের সময় ফেডারেশনের কর্মকর্তারা পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সুবিশাল মাঠ ও এর আশপাশের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ করেন তারা। প্রস্তাবিত জায়গাটিতে কীভাবে ট্র্যাক, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও আবাসিক স্থাপনা তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও প্রাথমিকভাবে ধারণা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘আমাদের নতুন সভাপতি আবদুল্লাহ আল জাবের একটি অ্যাথলেটিকস সেন্টারের জন্য সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় করিম জুট মিল পরিদর্শন করেছি আমরা। এই জুট মিল সরকার আমাদেরকে দিলে আমরা একটি আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক অ্যাথলেটিকস সেন্টার তৈরী করতে চেষ্টা করব।’
ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, ‘এমন একটি কেন্দ্র তৈরি করতে পারলে শুধু জাতীয় দলের অ্যাথলেটদেরই নয়, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ অ্যাথলেটদেরও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার জন্য অ্যাথলেটদের প্রস্তুত করা সহজ হবে।’
ফেডারেশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় করিম জুট মিলের এই মাঠে অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্টের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পাশাপাশি অ্যাথলেটদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক জিম ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ সুবিধাও যুক্ত করা যাবে। আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান অ্যাথলেটদের দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
তবে পুরো পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা। করিম জুট মিলের জায়গাটি ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ বা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, নকশা ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে আর্থিক সংকট দূর করতে বিদেশি সহায়তার চেষ্টা করবে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অ্যাথলেটিকসেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক প্রতিভাই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন না। ফেডারেশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি দেশের অ্যাথলেটিকসের জন্য তৈরি হতে পারে একটি স্থায়ী প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নকেন্দ্র।
এনএনবাংলা/
