সাম্প্রতিক
Skip to content

৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে রোহিঙ্গারা। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রথমবারের মতো রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যাচাই-বাছাইয়ে শনাক্ত এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে পর্যায়ক্রমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কয়েক দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নিলেও নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কারণে বড় পরিসরে কাউকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও রাখাইনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা সাগরপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশেও পাড়ি জমিয়েছে।

বাংলাদেশ শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও টেকসই করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রাখাইনে ফেরার আগে পূর্ণ নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দাবি করে আসছেন রোহিঙ্গারা।

এনএনবাংলা/