সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সাঁকো

জেলা প্রতিনিধি:

একটি বাঁশের সাঁকো ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। নীলফামারী সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়ার ডাঙ্গা গ্রামের বুড়িখোড়া নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি জেলার ডোমার ও জলঢাকা উপজেলা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতেরও একমাত্র মাধ্যম। তবে সদরের লক্ষ্মীচাপ, কাচাারি, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া, দাঁড়িহারা ও জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী, শিমুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি একটি ব্রিজ পাল্টে দিতে পারে ১০ গ্রামের মানুষের ভাগ্য। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিন নীলফামারী জেলা শহরে প্রবেশ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায়) শত শত শিক্ষার্থী। কাঁধে স্কুল ব্যাগ ও বাইসাইকেলের সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য (ধান,পাট, আলু, গম, ভুট্টা, সরিষা) পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোটিই ভরসা। তবে এটি যেন একটি ‘ফাঁদ’। তারপরেও প্রয়োজনের তাগিদে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ অনেক কষ্টে চলাফেরা করেন। একটি ব্রিজের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দফতরে ধর্ণা দিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি স্থানীয়রা। লক্ষ্মীচাপ কাঁচারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক কমর উদ্দিন বলেন, অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হন। মাঝে মধ্যেই তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিলা রাণী ও সপ্তম শ্রেণির হিমেল রায় জানান, পড়ালেখার তাগিদে আমরা এই সাঁকোর ওপর দিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করি। বর্ষাকালে বন্যার পানিতে সাঁকোটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। তখন এক থেকে দেড় মাস ক্লাস বন্ধ করতে হয়। পিছিয়ে পড়তে হয় পাঠ্যসূচি থেকে। অনেকের বই, খাতা ও কলম হাত ফসকে পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। তাই আমাদের প্রাণের দাবি জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। একই এলাকার পথচারী ধনঞ্জয় রায় ও ইট ব্যবসায়ী দিলীপ বাবু, রঞ্জু মিয়া বলেন, বছরে প্রায় ৪-৫ মাস বর্ষায় আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি একজন জরুরি রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ নেই। ৮-১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে রোগী নিয়ে জেলা শহরের যেতে হয়। বিশেষ করে, গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। রঞ্জু মিয়া আরও বলেন, গ্রামবাসীর এই দূরাবস্থা দেখার কেউ নেই। দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করে অবহেলিত গ্রামের মানুষগুলোকে সরকারি সেবার আওতায় আনার দাবি করেন তিনি। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, বসুনিয়ার ডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত বুড়িখোড়া নদীর ওপরে অবস্থিত সাঁকোটি মানুষের জন্য একটি মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক বছর এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। ব্রিজটি হলে মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি ১০ গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা অফিসের মাসিক মিটিংসহ এলজিইডি অফিসে কয়েক বার কথা বলেছি। আশা করি, দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুজন কুমার কর বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সাঁকোটি সম্পর্কে আমার জানা আছে, সেখানে জরুরি অবস্থায় ব্রিজ নির্মাণ প্রয়োজন। আমরা ব্রিজ নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে, বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।