সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

চলে গেলেন রণেশ মৈত্র

অনলাইন ডেস্ক :

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও কলামিস্টের মত বহু পরিচয়ে পরিচিত রণেশ মৈত্র আর নেই। সোমবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ জানিয়েছেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই বর্ষীয়ান সাংবাদিকের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তার মৃত্যুতে পাবানার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে অসুস্থ ছিলেন রণেশ মৈত্র। জ্বর বাড়লে তাকে শুক্রবার ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার রাতে তার অবস্থার অবনতি হয়।

রণেশ মৈত্রর স্ত্রী পূরবী মৈত্র বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি। তাদের তিন মেয়ে দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে থাকেন অষ্ট্রেলিয়ায়। তিনি দেশে পৌঁছানোরে পর শেষকৃত্য হবে বলে পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

রণেশ মৈত্রর জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ অক্টোবর, রাজশাহী জেলার নহাটা গ্রামে। তার পৈত্রিক বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়ায়। বাবা রমেশ চন্দ্র ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

১৯৫০ সালে পাবনা জিসিআই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন রণেশ মৈত্র। ১৯৫৫ সালে সেখান থেকে এইচএসসি এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক শেষ করেন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে রণেশ মৈত্র ছিলেন অগ্রণীদের কাতারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও জেল খেটেছেন তিনি।মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাবনাঅয় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হলে সেই কমিটির সদস্য ছিলেন রণেশ মৈত্র।

রণেশ মৈত্রর রাজনীতিতে হাতেখড়ি সেই ছাত্রজীবনে, ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে যোগ দিয়ে। ১৯৯৩ সালে তিনি কামাল হোসেনের সঙ্গে গণফোরামে যোগ দেন। পরে ২০১৩ সালে যোগ দেন ঐক্য-ন্যাপে।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে রণেশ মৈত্রর সাংবাদিকতা শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর কাজ করে ১৯৫৫ সালে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে।

ষাটের দশক থেকে শুরু করে ২০০০ সাল পর্যন্ত ডেইলি মর্নিং নিউজ, দৈনিক অবজারভারের হয়েও কাজ করেন তিনি। এছাড়া দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক এবং ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন।

চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখে গেছেন রণেশ মৈত্র। দীর্ঘদিন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।