সাম্প্রতিক
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান-সিওওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সমন সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি থাকবে জুলাই জাদুঘর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি সৌরভ ও ডোনাকে হত্যার হুমকি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত শুরু বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক গ্রামবাসীর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেবে সরকার
Skip to content

কোন্দলে তছনছ সিলেটের  হারিছ চৌধুরীর পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট :

একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় বহুল আলোচিত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর পরিবার ফের আলোচনায়।

কোন্দলে অনেকটা তছনছ পুরো পরিবার। হারিছের মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীকে গলাটিপে হত্যার হুমকির প্রকাশ্য ঘোষণার পর তারই চাচা আশিক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে।

সামিরার চাচাতো ভাই রাহাত চৌধুরী সিলেটের কানাইঘাট থানায় এই জিডি করেন। হারিছ চৌধুরীর আপন ভাই নজমুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে রাহাত।

এর আগে রাহাত চৌধুরী গত ২৩ জানুয়ারি কানাইঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তবে সেটি আমলে নেওয়া নিয়ে গড়িমসি করে পুলিশ। এমন অভিযোগ রাহাতের। অবশেষে ২০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে জিডি পাঠান। যার নম্বর ১১৭২। জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে।

জিডির ব্যাপারে আশিক চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য ধ্বংসে শয়তান লেগেছে। তার দাবি, সারাজীবন হারিছের গোলামি করলাম আমি আর এখন অমুক-তমুক এসে উত্তরাধিকার, অভিভাবক বনতে চাইছেন। বড় ভাই হারিছ নেই, এখন আমিই অভিভাবক। অভিভাবক হিসাবে শাসনের উদ্দেশ্যে গলাটিপে হত্যার কথা বলেছি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে। চাচা হয়ে কী ভাতিজিকে শাসন করতে পারি না?

গত ১৭ জানুয়ারি উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের রামধন গ্রামে হারিছ চৌধুরীর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন হুমকি দেন আশিক চৌধুরী। বক্তব্যের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হারিছ চৌধুরীর মেয়েকে ‘গলাটিপে হত্যা’র কথা বলেন। এ সময় হারিছ চৌধুরীর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়েও বিষোদ্গার করেন তিনি।

এছাড়া হারিছ চৌধুরী ও তার অন্যান্য ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের ওই এতিমখানায় ঢুকতে নিষেধ করেন এবং ঢুকলে মারধর করবেন বলে হুমকি প্রদান করেন। এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সিলেটসহ সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

রাহাত চৌধুরী বলেন, আমি বারবার বিচারপ্রার্থী হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ‘বিষয়টি পারিবারিকভাবে শেষ করুন’ বলে বিদায় করে দেওয়া হয়।

কানাইঘাট থানার ওসি গোলাম দস্তগীর বলেন, ‘পারিবারিকভাবে শেষ করুন’ এমন কথা নয়, আমরা শুধু বলেছিলাম-সামিরা বিষয়টি জানেন কি না, না জানলে জানিয়ে জিডি করুন। জিডি হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

সিলেটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) আবদুল করিম বলেন, পুলিশ জিডিটি আদালতে পাঠানোর নির্দেশনা চাইবে।এরপর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু’র খবর জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসেন তার চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরী। তখন তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন।