নতুন রাজনীতি, নতুন প্রশ্ন
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে, তাদের নিয়ে পুরনো রাজনীতির অস্বস্তি এখন আর গোপন নেই। প্রায়ই শুনতে হয়, “ওরা কেন রাজনীতিতে এসেছে?” এমনকি আন্দোলনের পর এক বিএনপি নেত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আন্দোলন শেষ, এবার ক্লাসে যাও, পড়াশোনা করো।”
কী অদ্ভুত কথা!
যে তরুণরা রাজপথে দাঁড়িয়ে জীবন বাজি রেখে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, তাদের রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। অথচ প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল অন্যরকম: এত বছর ধরে রাজনীতির শ্রেণিকক্ষটা শুধু আপনাদের দখলে থাকবে কেন?
তরুণদের বলা হয়, “২০২৪ ছাড়া তোমাদের আর কিছু নেই।” তারা যখন পাল্টা বলে, “আমাদের জন্মই হয়েছে নব্বইয়ের পরে। আপনারা যখন ১৯৭১, ১৯৭৫ কিংবা ১৯৯০-এর রাজনীতি করেছেন, তখন আমরা পৃথিবীতেই আসিনি। আপনারা যা লিখেছেন, যা বলেছেন, সেটাই পড়ে আমরা বড় হয়েছি,” তখন আবার অভিযোগ ওঠে, তারা নাকি ১৯৭১-এর ইতিহাসকে ছোট করছে।
অর্থাৎ ইতিহাসের মালিকানাও আপনাদের, রাজনীতির মালিকানাও আপনাদের!
এই মানসিকতার পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতি বহু বছর ধরে মূলত দুই দলের ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে আটকে ছিল। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পালা করে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। আর সাধারণ মানুষের সন্তানরা বারবার রাজপথে নেমেছে, আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে। ক্ষমতার রাজনীতির হিসাব বদলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য কতটা বদলেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই গেছে।
এখন নতুন প্রজন্ম সেই পুরনো হিসাব মানতে চাইছে না।
আজকের তরুণ রাজনীতিকরা অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন: এমপি হওয়া মানে শুধু এলাকায় গিয়ে রাস্তা-কালভার্ট উদ্বোধন করা, ফিতা কাটা, থানায় ফোন করা কিংবা পাঁচ বছর পর ভোটের সময় মানুষের দরজায় হাজির হওয়া নয়।
একজন এমপির মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের স্বার্থ সংসদে তুলে ধরা।
হাসনাত আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজের পর সাংবাদিকদের সামনে তার বক্তব্যের ধরনটি দেখুন। তিনি অর্থনীতি বা ব্যবসার ছাত্র নন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়েছেন বলে বিষয়টি নিয়ে পড়েছেন, প্রস্তুতি নিয়েছেন, বুঝেছেন এবং তারপর কথা বলেছেন। কাগজ দেখে মুখস্থ বক্তব্য পড়ে শোনানোর বদলে বিষয়টি নিয়ে নিজের বোঝাপড়া থেকে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
এটাই একজন এমপির কাজ।
এমপিকে সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। কিন্তু তাকে শিখতে জানতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে। নিজের এলাকার মানুষের প্রয়োজন বুঝতে হবে। দলের নীতি, তথ্য, গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এখানেই নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় পার্থক্য চোখে পড়ে।
বছরের পর বছর রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা এমপিরা যদি সংসদীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া হাজির হন, কিংবা অন্য ব্যস্ততার অজুহাতে পরপর বৈঠক অকার্যকর করে দেন, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: জনগণের টাকায় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে তাদের মূল দায়িত্বটা কী?
জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে এমপি হয়েছেন। তাহলে জনগণের কাজ করার সময় কোথায়?
সংসদীয় কমিটির শুনানি আরও কার্যকর করা উচিত। সম্ভব হলে এসব শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত। জনগণ নিজের চোখে দেখুক, কে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিয়ে সংসদে আসেন, কে প্রশ্ন করেন, কে যুক্তি দেন আর কে শুধু পদ-পদবি নিয়ে বসে থাকেন।
তাহলে অনেক মুখোশ এমনিতেই খুলে যাবে।
হাসনাত, নাহিদদের রাজনীতিতে আসার সবচেয়ে বড় গুরুত্ব এখানেই। তারা শুধু নতুন মুখ নন, তারা পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির সামনে একটি নতুন প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছেন: রাজনীতি কি বংশ, বয়স, দলীয় আনুগত্য আর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অভিজ্ঞতার একচেটিয়া সম্পত্তি, নাকি যোগ্যতা, জ্ঞান, প্রস্তুতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা?
আমরা সারাজীবন এমন রাজনীতি দেখে এসেছি, যেখানে এমপি মানেই যেন এলাকায় কয়েকটি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন, নিজের লোকজনকে সুযোগ দেওয়া, ক্ষমতার দাপট দেখানো আর পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাওয়া।
তরুণরা সেই রাজনীতির বাইরে বের হতে চাইছে।
তারা পড়ছে। শিখছে। প্রশ্ন করছে। নীতি নিয়ে কথা বলছে। সংসদীয় প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবছে। ভুল হলে তাদের সমালোচনা অবশ্যই হবে। কারণ নতুন হলেই কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।
কিন্তু শুধু তরুণ বলে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার দিন শেষ।
রাজনীতি কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।
যারা এতদিন রাজনীতিকে নিজেদের একচেটিয়া এলাকা মনে করেছেন, তাদের অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে ঢুকলে শুধু চেয়ার বদলাবে না, রাজনীতির সংজ্ঞাটাও বদলাতে শুরু করবে।
এই পরিবর্তনই প্রয়োজন।
This is the new politics of New Bangladesh.
পুরনো রাজনীতির সবচেয়ে বড় ভয় সম্ভবত এটাই: নতুনরা যদি সত্যিই শিখতে থাকে, প্রস্তুতি নিতে থাকে এবং জনগণের সামনে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে থাকে, তাহলে একদিন মানুষ প্রশ্ন করবে, এতদিন যারা রাজনীতি করেছেন, তারা আসলে কী শিখেছেন?
আগলে নয়, এবার পথ ছেড়ে দিন
বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন পৃথিবী বদলে যাচ্ছে অভাবনীয় গতিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি আগামী দিনের পৃথিবীকে নতুন করে সাজাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে বাংলাদেশের রাজনীতিকেও পুরনো চিন্তা, পুরনো কাঠামো এবং পুরনো ক্ষমতার সংস্কৃতির বাইরে বের হতে হবে।
এ কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করতে পারবে নতুন প্রজন্ম।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর বড় বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে তরুণদের ভূমিকা কখনোই ছোট ছিল না। বাংলাদেশের ইতিহাসও তার ব্যতিক্রম নয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, প্রতিটি বড় বাঁকে তরুণরাই রাজপথের সবচেয়ে সক্রিয় শক্তি ছিল।
তবে প্রতিটি প্রজন্মের লড়াইয়ের ধরন এক নয়।
একাত্তরের প্রজন্মের সামনে ছিল স্বাধীনতার প্রশ্ন। নব্বইয়ের প্রজন্মের সামনে ছিল স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। আর ২০২৪-এর প্রজন্মের সামনে এসেছে রাষ্ট্রব্যবস্থা, জবাবদিহি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রশ্ন।
তাই ২০২৪-এর তরুণদের শুধু অতীতের আন্দোলনের গল্প শুনিয়ে থামিয়ে দিলে হবে না। তাদের হাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তুলে দিতে হবে।
আমরা যারা সিনিয়র সিটিজেন, আমাদেরও একসময় স্বপ্ন ছিল, লড়াই ছিল, কাজ করার শক্তি ছিল। আমরা আমাদের সময়ের সীমার মধ্যে যতটা পেরেছি করেছি। কিন্তু বয়সের সঙ্গে মানুষ একটি জিনিস বুঝতে শেখে: সবকিছু নিজের হাতে ধরে রাখার চেষ্টা করাই দায়িত্বশীলতার লক্ষণ নয়। কখন কোথায় সরে দাঁড়াতে হবে, সেটাও নেতৃত্বের অংশ।
আমরা জানি আমাদের দৌড় কতদূর।
নতুন করে সবকিছু শেখার জন্য যে সময়, ধৈর্য, এনার্জি ও মানসিক প্রস্তুতি দরকার, আমাদের প্রজন্মের অনেকের কাছেই তা আর আগের মতো নেই। অথচ নতুন প্রজন্মের সামনে সেই সময়টুকু আছে। তাদের সামনে আরও কয়েক দশক আছে। তারা AI-এর সঙ্গে কাজ করতে পারছে, বিশ্বের নতুন প্রযুক্তি বুঝছে, নতুন ধরনের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের কথা ভাবছে। তাদের চিন্তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পৃথিবীর যোগাযোগও অনেক বেশি।
বাংলাদেশকে যদি আগামী দিনে বিশ্বের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ, উদ্ভাবনী ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে হয়, তাহলে সেই কাজের নেতৃত্বও তাদের হাতেই দিতে হবে।
এর অর্থ এই নয় যে সিনিয়রদের আর কোনো ভূমিকা থাকবে না।
বরং আমাদের ভূমিকা বদলাতে হবে।
আমরা সামনে দাঁড়িয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার বদলে অভিজ্ঞতা দিয়ে পথ দেখাতে পারি। ভুলের জায়গাগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে পারি। ইতিহাসের শিক্ষা দিতে পারি। কিন্তু স্টিয়ারিংটা ধরে রাখতে হবে নতুন প্রজন্মকে।
কারণ গাড়ি চালানোর জন্য শুধু অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। সামনে কোন রাস্তা তৈরি হচ্ছে, কোন প্রযুক্তি আসছে, পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাও জানতে হয়।
দুঃখজনকভাবে আমাদের রাজনীতিতে অবসর নেওয়ার সংস্কৃতি প্রায় নেই। একজন নেতা একবার রাজনীতিতে ঢুকলে তিনি মনে করেন, যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন নেতৃত্বেও থাকবেন। বয়স বাড়ে, প্রজন্ম বদলায়, পৃথিবী বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়, কিন্তু নেতৃত্বের চেয়ার বদলায় না।
এটাই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় সমস্যা।
বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রে নেতৃত্বের প্রজন্ম পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পুরনো নেতারা অভিজ্ঞতা দিয়ে পরামর্শ দেন, নতুনরা দায়িত্ব নেন। এতে পুরনোদের অসম্মান হয় না। বরং তাদের অভিজ্ঞতা আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি তৈরি করা দরকার।
আমাদের তরুণদের বলতে হবে না, “আন্দোলন শেষ, এবার ক্লাসে যাও।”
বরং বলতে হবে, “ক্লাসে যাও, আরও পড়ো, আরও শেখো, তারপর দেশ চালানোর দায়িত্ব নাও।”
কারণ রাজনীতি যদি জ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও বিশ্বপরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারে, তাহলে শুধু পুরনো অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব নয়।
আজকের পৃথিবীতে একজন রাজনীতিককে শুধু স্থানীয় রাজনীতি জানলেই হবে না। তাকে জানতে হবে AI কীভাবে কর্মসংস্থান বদলে দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে, বৈশ্বিক বাণিজ্য কোন দিকে যাচ্ছে, অভিবাসন ও প্রবাসী অর্থনীতি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কীভাবে আধুনিক করা যায়।
তাকে জানতে হবে পৃথিবীর অন্য দেশগুলো কীভাবে নিজেদের উন্নত করছে।
এই পড়াশোনা, এই অনুসন্ধিৎসা এবং এই নতুন পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার শক্তি সবচেয়ে বেশি আছে তরুণদের মধ্যে।
তাই পুরনো প্রজন্মের জন্য এখন সবচেয়ে সম্মানের কাজ হতে পারে চেয়ার আঁকড়ে ধরে থাকা নয়, চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার সাহস দেখানো।
আমরা যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসি, তাহলে নিজেদের জায়গা থেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে: আমার আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা কি দেশের জন্য বেশি প্রয়োজন, নাকি একজন তরুণকে পাঁচ বছর নেতৃত্ব শেখার সুযোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন?
এই প্রশ্নের উত্তরই আমাদের রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরীক্ষা।
হাসনাত, নাহিদ কিংবা ২০২৪-এর আন্দোলন থেকে উঠে আসা অন্য তরুণদের কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাদের ভুল হবে, তাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা হবে, তাদের ব্যর্থতাও হতে পারে। কিন্তু ব্যর্থতার ভয় দেখিয়ে তাদের সুযোগ না দেওয়া কোনো সমাধান নয়।
আমরাও তো ভুল করেছি।
আমাদের প্রজন্মের রাজনীতিতেও ভুল ছিল, ব্যর্থতা ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল। ইতিহাস আমাদের সেসবের হিসাব একদিন নেবে। তাই নতুন প্রজন্মকে ভুল করার সুযোগটুকুও দিতে হবে। তবে সেই ভুল যেন জনগণের সামনে, জবাবদিহির মধ্যে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে হয়, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রজন্মের সংঘাত নয়, প্রজন্মের হস্তান্তর।
পুরনোরা অভিজ্ঞতা দেবেন, নতুনরা নেতৃত্ব দেবেন।
পুরনোরা ইতিহাস বলবেন, নতুনরা ভবিষ্যৎ লিখবেন।
পুরনোরা ভুলের শিক্ষা দেবেন, নতুনরা নতুন পথ তৈরি করবেন।
আমরা যারা সিনিয়র সিটিজেন, আমাদের এখন বুঝতে হবে, সবকিছু আগলে রাখার সময় শেষ। আমরা আমাদের সময়ের বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। এখন নতুন প্রজন্মকে তাদের বাংলাদেশ তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে।
পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকলে নতুনরা সামনে যেতে পারবে না। তাই আগলে না রেখে এবার পথ ছেড়ে দিন। হয়তো এটাই হবে আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অবদান।
কারণ নেতৃত্বের প্রকৃত সাফল্য শুধু কতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, তার মধ্যে নয়। আপনি আপনার পরের প্রজন্মকে কতটা শক্তিশালী করে যেতে পেরেছেন, তার মধ্যেই আসল সাফল্য।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া মানে আমাদের পরাজয় নয়। বরং সেটাই আমাদের প্রজন্মের শেষ এবং সবচেয়ে সুন্দর বিজয়।
লেখক: নিউইয়র্ক প্রবাসী কথাসাহিত্যিক ও কলাম লেখক।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
