Skip to content

ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি হয়ে এসেছিল চব্বিশের জুলাই

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানে কারা অংশ নিয়েছিলেন, আজকাল কেউ কেউ প্রশ্ন তুলে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। লক্ষ্য করছি, তাদের উদ্দেশ্য ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি এই অধ্যায়টিকে মিথ্যার আবরণে রঙচঙ মাখিয়ে ভিন্ন এক ধারণা দেয়ার অপচেষ্টা চালানো। কিন্তু সত্য তো সত্যই।

হাজারটা মিথ্যা দিয়ে একটি সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও একসময় দিনের উজ্জ্বল সূর্যালোকের মতো আসল সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হয়, সবাই আসল সত্যটাকে গ্রহণ করে। মিথ্যা ডাস্টবিনের আবর্জনা হিসেবে নিক্ষিপ্ত হয়। এখনও সেটা হচ্ছে। আমরা তো নিজের চোখে চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্টের সমস্ত ঘটনাবলি দেখেছি। নিজেরাও কমবেশি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তখন কী দেখেছি আমরা? হিজাবি, বেপর্দা নারী, আস্তিক, নাস্তিক, শিল্পী, মোল্লা, রিক্সাওয়ালা, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, গুলশান-বনানীর রিচ-কিডস,পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী খুলনা বরিশাল, গ্রাম, শহর, মফস্বল পলিটিকাল,নন-পলিটিকাল,মায়েরা, বোনেরা, ভাইয়েরা, গুপ্ত, অগুপ্ত, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান হুজুর, মজুর … এদেশের সবাই মিলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্বৈরাচারী স্বেচ্ছাচারী দুঃশাসনের খলনায়িকা শেখ হাসিনাকে খেদিয়েছে দেশ থেকে ।

এটা কি মেটাকুলাস প্ল্যান ছিলো? প্ল্যানটা কে করেছে ? অন্য কোনো দেশ? বড় কোনো দেশের ইনফ্লুয়েন্স থাকলেও, who cares? July was inevitable. ওটা ছিল অবিসম্ভাবী ব্যাপার! ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি। অত্যাচারী নিপীড়ক স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট গণতন্ত্রের দুশমন শাসকদের এভাবেই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে দলবলে পালিয়ে যেতে হয়।

এধরনের ঘটনা তো বাংলাদেশে প্রথম নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসক যখন তার অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন পৈশাচিকতা নির্মমতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। নিজের গদি জোর করে দখলে রাখতে নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতার সব রেকর্ড ভঙ্গ করে, নিজের দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে দেশের নারী পুরুষ শিশু কিশোর বৃদ্ধ যে কোনো বয়সী মানুষকে। তখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ায় সেই উন্মত্ত স্বৈরাচারী শাসকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। রাজপথে নামতে একটুও দ্বিধাবোধ করে না। চোখের সামনে বাচ্চা, ছাত্র, ঘরের ভেতর বুলেট তেড়ে আসা বুলেটে রিয়া গোপের মৃত্যু দেখার পর আমাদের কি করার ছিলো? সব অত্যাচার সহ্য করে শেখ হাসিনাকেই সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া? যদি সবাই জানতামও অন্য দেশ আড়াল থেকে উস্কে দিচ্ছে, তারপরেও যখন দেখতাম, শেখ হাসিনার পুলিশ, তার ছাত্রলীগ রামদা, পিস্তল হাতে দেদারসে মানুষ মারছে, সেটা দেখে ঘরে বসে থাকাটা কি উচিত ছিলো আমাদের? অনেকে তো বসেই ছিলাম, কিন্তু একদম জানালার সামনে এসে যখন তারা গুলি মারছিল, তারপরেও কীভাবে বসে থাকতাম? উত্তরাতে যে ছেলেটি হাত উঁচু করে সবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে গিয়েছিল, মসজিদের আজানের সাথে বুলেটের শব্দ, মসজিদের মাইকে ভাই হারানো বন্ধুর কান্না ভরা আকুতি—সব উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে তখনো গদিতে বসিয়ে রাখাটা কি ন্যায়সঙ্গত ছিলো? বিবেকবান , নীতিবোধ সম্পন্ন কেউ তা মেনে নিতে পারেনি।

বছরের পর বছর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ করে আসা বিবেকবান, মানবিক বোধসম্পন্ন অনেকেই তখন বিদ্যমান পৈশাচিকতা, নির্মমতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিল । ঠিক ওই সময়ে, জুলাই বিপ্লবের বিকল্প আর কিছু্ই ছিলো না। এটা যেন মহান সৃষ্টিকর্তার এক অবিস্মরণীয় পরিণতি হিসেবে নেমে এসেছিল এই বাংলাদেশে। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদের অনেক কিছুতেই ছাড় দেন, কিন্তু সেটা সীমা অতিক্রম করে গেলে আর ছেড়ে দেননা। এটাই প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম।

বড় দেশের প্রভাব থাকলেও, সেখানে যে চীন-আমেরিকার মতো বৃহৎ শক্তি, সুপার পাওয়ার সবাই একমত ছিল যে ঐ সাইকোপ্যাথ মহিলাকে আর সাপোর্ট দেওয়া যাবে না, সেটা জুলাইয়ের পর হাসিনাকে যে কোনো দেশ ঠাঁই দেয়নি আজ পর্যন্ত, সেটাতেই পরিষ্কার। ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দেওয়া হাসিনার মাথার উপর থেকে মুরুব্বিদের আশীর্বাদের হাত সরে গিয়েছিল সেটা জেনেই শেখ হাসিনা তার আসল রূপ দেখিয়ে দিয়েছে শেষ মুহূর্তে।

আজকাল পতিত স্বৈরাচারের দোসররা, আওয়ামী লীগের বয়ান প্রচার করে বলছে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ গুলি চালায়নি। আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ গুলি চালিয়েছে। কতো বড় মিথ্যাচার করতে পারে তারা? তাদের প্রোপাগান্ডা কৌশল অতি চমৎকার। কী নির্মম পাশবিক তাদের মন মানসিকতা ! জলজ্যান্ত সত্যি ঘটনাকে তারা এমনভাবে প্রচার করে মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ করতে চায়, যা দেখে অবাক না হয়ে পারিনা। শত শত ভিডিও থাকার পরেও, পুলিশ ভ্যানে লাশ পোড়ানোর ফুটেজ থাকার পরেও, পুলিশের ট্যাঙ্কারের উপর থেকে লাশ ছুড়ে ফেলার ভিডিও থাকার পরেও যারা জিজ্ঞেস করে, সন্দেহ করে যে ‘গুলি আসলে করেছেটা কে’—দুই বছর পর এসে আমাদের মেনে নিতে হবে এমন নির্জলা মিথ্যা বয়ান? এরা সবই জানে, কিন্তু বিভ্রান্তু ছড়ানোর জন্য এইসব প্রশ্ন তুলে। এদেরকে উত্তর দেয়ার, প্রমাণ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে কী লাভ? এরা নিজেরাই হেদায়েত চায় না, আমরা কেন যেচে পড়ে দুই বছর ধরে তাদেরকে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি? আপনাদের কে বলেছে তারা প্রমাণ চায়? তারা শুধু বিভ্রান্তি চায়। মিথ্যা বয়ান দিয়ে আসল সত্যটা আড়াল করতে চায়। এদের জন্ম যে দাজ্জালের গর্ভে।

আজকাল পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সমর্থক কতিপয় লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন করে চব্বিশের জুলাই বিপ্লব করেছে কারা? ওরা নাকি সব রাজাকারের নাতিপুতি! জুলাই বিপ্লব নাকি সবাই জামায়াত শিবিরের ছেলেদের কাজ। ওটা নাকি মেটিকুলাস ডিজাইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছিল। বুকে ওড়না নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে স্লোগান দেওয়া মেয়েটি কি রাজাকার ছিল? পুলিশভ্যানকে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেওয়া মেয়েটি কি রাজাকার ছিল? প্রাইভেট ভার্সিটির শার্ট-প্যান্ট পড়া মেয়েগুলোও কী জামায়তের? এরা কেমন জামায়াতি? যেই বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা জুলাইয়ে স্বৈরাচারী স্বেচ্ছাচারী দুঃশাসনের খলনায়িকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শক্ত ভাষায় ভাষণ দিয়েছে, যেই তরুণেরা ৭১ এর রক্তে নাচন ধরানো বিপ্লবী গানে গানে উদ্দাম শিহরণ জাগিয়েছে, শহীদ মিনারকে কেন্দ্র ধরে যারা জুলাই চালনা করেছে—এরা কোন ক্যাটাগরির জামায়াতি? আসল কথা হলো, যেসব কথা বলে হাসিনা গদি হারিয়েছিল, সেই কথার কার্যকারিতা যে এখন আর নেই সেটা পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা, বিভিন্ন দেশে পলাতক নেতা কর্মীরা এখনো বুঝেও বুঝে না। আর এই রাজাকার তকমা দিয়ে যে তারা আসলে সত্যটাকে আড়ালে নিয়ে যেতে তৎপর সেটা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।

জুলাইয়ের পর দেশে চুড়ান্ত বিজয় এলো ঐতিহাসিক ৫ আগস্টে। জুলাইয়ের পর কি হবে সেটা মাথায় রেখে কেউ হাসিনাকে তাড়ায়নি। ঠিক ওই সময়ে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে অত্যাচার, নির্যাতন, নির্মমতা, পৈশাচিকতার সব সীমা ছাড়ানো হাসিনাকে তাড়ানোটাই ছিলো জুলাইয়ের মূল ম্যান্ডেট। এরপর হাসিনাকে খেদানোর পর মানুষ অনেক চমৎকার চমৎকার সব স্বপ্ন দেখেছিল, গ্রাফিতি এঁকে সেই স্বপ্নের জানান দিয়েছে এদেশের তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা । হয়তো জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের কিছু কিছু অপরিপক্বতা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা, ভুল সিদ্ধান্ত সেই স্বপ্নগুলাকে হারিয়ে যেতে সহায়তা করেছে । কিন্তু সেটা কোনো ভাবেই জুলাইকে ব্যর্থ কিংবা অকার্যকর করেনা। হয়তো ফরাসি বিপ্লব সফল হয়নি, আরব বসন্ত সফল হয়নি , শ্রীলংকা বিপ্লবের পূর্ণতা দিতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাদেরকে থামানো থেমে থাকে না। থাকতে পারে না। ওটা তখন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

এখন ফিসফাস কথা শোনা যায় কারো কারো মুখে। শেখ হাসিনা নাকি আবার ফিরে আসছে! আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, তার কোনো সুযোগ নেই। বৈশ্বিক রাজনীতিতে তার কোনো অবস্থান নেই, প্রাসঙ্গিকতা নেই। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সব বড় দেশ হাসিনাকে স্বৈরাচারী , গণহত্যাকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সবার ঘৃণা নিন্দা অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে একপ্রকার লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করাটাই এখন তার জন্য চ্যালেঞ্জ। এরপর তো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নেই তার। এখন তাকে কোনো দেশ গ্রহণ করছেনা, কারণ বিশ্ব স্বীকৃত এই সাইকোর সাথে নিজেদেরকে জড়িয়ে কেউ নিজের সর্বনাশ ডাকতে চায় না।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এতো বড় বোকা কেউ নয়। ভারত ছাড়া হাসিনার মধ্যে আর কোনো দেশের স্বার্থ নাই, না আমেরিকার, না চীনের। চীন ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ তারা মানবে না। অতএব, ভারত ফেসবুকে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করা এবং ভার্চুয়াল ঝামেলা সৃষ্টি ছাড়া হাসিনাকে দিয়ে আর কিছু করানোর সাহস করবে না এটা নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায়। আর শেখ হাসিনার পরিবারের লোকজনের সেই সাহস নেই এই দেশে ফিরে আসার। দেশের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথে ডান-বাম সব এক হয়ে যে তাদের পাওনা মেটাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে, বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে সেই বিএনপির তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে তাদের হাতে নির্মমভাবে গুম খুনের শিকার হয়েছেন। নির্মম নির্যাতনের কারণে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন । সেই অমানুষিক নির্যাতনের ক্ষত আজও শুকোয়নি । তারা এতো তাড়াতাড়ি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারবে না।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, ইতিমধ্যেই তার যে সাজা হয়েছে তার জন্য ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে। এটা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাকে যদি বর্তমান সরকার মৃত্যুদন্ডে কার্যকর করতে ফাঁসিতে না ঝুলায়, তাহলে যে তারও গদি নড়ে যাবে—এই সব হিসাব মিলিয়েই নিশ্চিত করে বলা যায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরত আসার সুযোগ একদমই নেই। তবে আমরা চাই হাসিনা এইভাবে ভোল্ডেমোর্টের মত টিকে থাকুক। হয়তো চব্বিশের জুলাইয়ের পর আন্দোলনে সামিল হওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলো সবাই যার যার রাস্তায় আলাদা হয়ে গেছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যাওয়ারই কথা। কিন্তু ১৬ বছর ধরে কঠিন নিষ্পেষনে এদেশের মানুষের জীবন নারকীয় করে তোলা ফ্যাসিস্ট জালিম পিশাচ শেখ হাসিনাকে রুখতে আজও সবাই একাট্টা। এই ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি লোকজন সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে । সবাইকে এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য এই কমন ডাইনি শত্রুর দরকার আছে। এই ডাইনি বেঁচে থাকলে জুলাইয়ের আগুনও জ্বলতে থাকবে ধিকি ধিকি করে। সবাই বারবার তাকে এবং তার পা চাটা দোসরদের প্রতিহত করতেই যাবে। কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।

এখন বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা কর্মী অবৈধ উপায়ে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা খরচ করে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যস্ত। এতসব করেও পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ কিছু করতে পারছে না। এটাই বাস্তবতা। বহু চেষ্টা করেও ‘আগেই ভালো ছিলাম’ কনসেপ্ট খাওয়াতে পারেনি তারা সাধারণ মানুষকে। বাতিল কিছু অপদার্থ আওয়ামী এক্টিভিস্টদের দিয়ে অনলাইনে প্রোপাগান্ডা, আর রাতের অন্ধকারে কিংবা ভোরের আলো ফোটার পর পর নীরব নির্জন সুনসান রাজপথে দুই দশজন দিয়ে ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের হাসির পাত্রে পরিণত করা আর নিজেদের দুর্বলতা সবাইকে দেখানো ছাড়া তাদের তো আর কিছু করার নাই।

সবাই ভেবেছিলেন, ২০১৮-এর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অসমাপ্ত আন্দোলন যারা করেছিল, তারাই চব্বিশের জুলাইয়ে এসে সেই অসমাপ্ত আন্দোলনকে পূর্ণতা দিয়েছে শেষ পর্যন্ত। জুলাই অপূর্ণ, জুলাই অক্ষয়, জুলাই অমর। জুলাই অনেক উদ্দীপনার উৎস। জুলাই অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা লুটপাট অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা। কারণ, জুলাইয়ের পর পরই মানুষ যে এনার্জি নিয়ে ফেনীর বন্যায় নিজের সাধ্য অনুযায়ী দান করেছিল, রাতভর পাহারা বসিয়ে চোর ডাকাত ছিনতাইকারী ধরেছিল, ভারতীয় র’ এর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। দুর্গাপূজার সময় পূজা মণ্ডপ পাহারা দিয়ে আমাদের দেশের ছেলেরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেয়নি—তাদের সেই যড়যন্ত্র পূর্ণতা পায়নি শেষ পর্যন্ত।

যে তরুণেরা-কিশোরেরা জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছে তারা এখনও আছে, তারা সত্যটা জানে। তাদেরকে কোনোভাবেই ভুল ইতিহাস গেলানো যাবেনা। যদি সময়মত সব ঠিক না হয়, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়—স্বচক্ষে নিজের বন্ধু, স্বজন, ক্লাসমেটদের মরতে দেখা এই তরুণেরা চুপ থাকবে বলে মনে হয়? কোনো গোষ্ঠী বিশেষ কোনো মহল এদেরকে ভুজংভাজং বুঝিয়ে কিছু পারবে বলে মনে হয় ? একটা সময়ে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া একটা জেনারেশন এখন খুব সিরিয়াসলি রাজনীতি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে।পড়াশোনার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক আলাপ করে, এটাই জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর রাজনৈতিকভাবে চাঙ্গা থাকা তরুণেরা যেকোনো দুঃশাসনের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ, এটা উপলব্ধি করতে হবে।

আজও পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পক্ষে কিছু কিছু মানুষ আছে। এরা থাকবে। বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। এটা সত্য। আল্লাহর দুনিয়াতে তেলাপোকা, মশা, চেলা, কেঁচো—সবই আছে। আমাদের দেশেও আওয়ামী লীগ আছে, ৭১ মুক্তিযুদ্ধের পরেও আলবদর রাজাকাররা ছিলো। এগুলোকে নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হবে। এখন তেলাপোকা, মশা দেখলে আমি, আপনি যা করেন, তা করবেন আওয়ামী লীগের সাথে, খুব সহজ-সরল, সিম্পল কথা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও কলাম লেখক।

*মতামত লেখকের নিজস্ব।