সাম্প্রতিক
মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবে জাতিসংঘ, আসছেন কর্মকর্তা ঢাকা থেকে হঠাৎ দিল্লি: ত্রিবেদীর চমক, নাকি শুধুই দৌড়ঝাঁপ? ‘জামিন পেলে সমাজে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে’, গাজী নজরুলের বিষয়ে বিচারক তিন মাসে এলপিজির কাঁচামালের দাম কত ও কেন বাড়লো? ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’, নারী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন নারী চালকরাই উত্তাল দিল্লি: পুলিশে টেনে-হিঁচড়ে সরানোর পরও রাস্তায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার অবস্থান শেষ ম্যাচেও মেসি জাদুতে বুঁদ বিশ্ব, বিদায় বার্তায় কী বললেন ফুটবলের যাদুকর? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ‘অপতৎপরতা’ কঠোরভাবে দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই
Skip to content

দ্রুত এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সরবরাহের আহ্বান বিমানমন্ত্রীর

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বুধবার রাজধানীর হোটেলে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের ঘাটতি পূরণে ২০২৮ সালের মধ্যে এয়ারবাসকে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তাই আমি এয়ারবাসের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করছি, ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে। এটি আমার, আমাদের এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ।’

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ অনুরোধ জানান।

এয়ারবাসের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে মিল্লাত বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান যেন আরও বেশি যাত্রী সেবা দিতে পারে, সেজন্য দ্রুত উড়োজাহাজ সরবরাহ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশ যোগাযোগের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বিমানের বহর সম্প্রসারণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের মাত্র ২০ শতাংশ আকাশপথের যাত্রী পরিবহন করে, আর বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে যাতায়াত করে বলে তিনি জানান।

বিমানের নিজস্ব বহর সম্প্রসারণ এবং একটি টেকসই বহর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো বাজারের চাহিদা ও রুট অনুযায়ী বিমানকে আরও দক্ষতার সাথে পরিচালনায় সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। আমরা বিমানকে অন্যতম সেরা একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে এয়ারবাস ও বোয়িং উভয় ব্র্যান্ডেরই উড়োজাহাজ থাকবে। এর জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো এবং পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়ে সঠিক রুটের জন্য সঠিক বহর তৈরি করা প্রয়োজন।’

বিমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব এবং সেবার মান বজায় রাখারও আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে একটি এয়ারলাইন্সকে অসাধারণ করে তোলা সম্ভব নয়। বিমানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এর কর্মীদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার ওপর।

কার্গো নিরাপত্তার বিষয়ে মিল্লাত বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশ থেকে গমনকারী কার্গো ও ডাকপণ্যকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছিল। সে সময় উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের ২০২৬ সালের ১৭ জুলাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইয়ুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

বক্তারা বলেন, এই চুক্তি বিমানের পরিচালন ক্ষমতা জোরদার করবে, কর্মীদের দক্ষতার উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশকে একটি অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তারা আরও বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

এনএনবাংলা/ইএস