সাম্প্রতিক
মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবে জাতিসংঘ, আসছেন কর্মকর্তা ঢাকা থেকে হঠাৎ দিল্লি: ত্রিবেদীর চমক, নাকি শুধুই দৌড়ঝাঁপ? ‘জামিন পেলে সমাজে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে’, গাজী নজরুলের বিষয়ে বিচারক তিন মাসে এলপিজির কাঁচামালের দাম কত ও কেন বাড়লো? ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’, নারী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন নারী চালকরাই উত্তাল দিল্লি: পুলিশে টেনে-হিঁচড়ে সরানোর পরও রাস্তায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার অবস্থান শেষ ম্যাচেও মেসি জাদুতে বুঁদ বিশ্ব, বিদায় বার্তায় কী বললেন ফুটবলের যাদুকর? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ‘অপতৎপরতা’ কঠোরভাবে দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই
Skip to content

কুড়িগ্রামের সোনাহাট সেতুর নির্মাণ কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কের দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি।

১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ ৬ দফা সময় বাড়ানোর পরও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের প্রায় ২৮০ মিটার অংশের কাজ আটকে আছে।

সেতুটি নির্মাণ শেষ না হওয়ায় সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর, কয়লা ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনকারী ভারী যানবাহনসহ স্থানীয় যাত্রীবাহী যানবাহনকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত অর্থাৎ ১৮৮৭ সালের পুরনো রেলসেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ ওই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, পণ্যবাহী ট্রাকচালক এবং স্থানীয় কয়েক লক্ষ মানুষ।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ সোনাহাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। পরে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৪১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

সেতুটির নির্মাণ কাজ পায় এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (জেভি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২২ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এরপর কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও এখনো সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণ কাজে নকশাগত ত্রুটি, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি এবং ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সূত্রিতায় পড়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শামীম রেজা বাসস’কে জানান, সেতুর ১৪টি স্ল্যাব, ৭০টি গার্ডার ও ১৪টি স্প্যান নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কের কাজও প্রায় শেষ। তবে পূর্ব প্রান্তের প্রায় ২৮০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, ওই জমির মালিকানা নিয়ে রেলওয়ে ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো জটিলতার অবসান হয়নি।

এদিকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ১৮৮৭ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পুরনো রেলসেতুটিই এখন স্থানীয় মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেতুটির পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাঝে মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একমুখী সেতু হওয়ায় দুই দিকের যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শনিবার ও মঙ্গলবার ভূরুঙ্গামারীর হাটবারে পুরনো রেলসেতুতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

সোনাহাট বাজারের অটোরিকশাচালক আশরাফুল আলম বাসস’কে বলেন, পুরনো সেতুটির পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় প্রায়ই গাড়ির চাকা আটকে যায়। সেতু পার হতে স্বাভাবিক সময়ে অন্তত আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হাটবারে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কচাকাটা থানাসহ ছয়টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ এই সেতু দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সেতুর ওপর যানজটের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন ও আব্দুল লতিফ বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে এত বছর সময় লাগবে, তা আমরা ভাবিনি। দুধকুমার নদের দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন।’

তারা বলেন, সেতুটি চালু হলে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি ভূরুঙ্গামারীসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর নিজাম উদ্দিন বাসস’কে জানান, সোনাহাট সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হলে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে জুন মাসে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান করা গেলে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সেতুটি চালু হলে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন ও সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো রেলসেতুর ওপর মানুষের নির্ভরশীলতাও কমবে।

এনএনবাংলা/ইএস