সাম্প্রতিক
জুলাই আন্দোলনে মুগ্ধসহ ১১ হত্যা, ট্রাইব্যুনালে ২৬ আসামির বিচার শুরু তিন মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবার সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু ঢাকার ৮০ শতাংশ লোকাল বাসে নেই হেলপার, সংরক্ষিত আসনেও বসেন পুরুষ যাত্রী বেআইনি আটক বন্ধ ও ইন্টারনেট-মেট্রো চালুর নির্দেশ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের দুর্গাপূজায় চলবে ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা তরুণ জার্মান পর্যটকের কান্না ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশিকে, উপহার দিলেন ম্যাকবুক নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ৪০ বাড়ি ও একাধিক সেতু শেরেবাংলা নগরে যাচ্ছে সচিবালয়
Skip to content

লাভজনক হওয়ায় কালীগঞ্জে মাল্টা চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা রাজধানী ঢাকার খুবই সন্নিকটে। মাটি, আবহাওয়া এবং ভূ-প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় কালীগঞ্জের চাষীরা মিশ্র ফল বাগানে মাল্টা চাষের দিকে ঝুকছে। ব্যাপক সারা ফেলেছে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ভিটি বাঘুন গ্রামের মো. জামির হোসেনের মাল্টা বাগান। উচু শ্রেনীর জমি মাল্টা চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি উপযুক্ত।

সরেজমিনে গিয়ে মিশ্র বাগানের মনোরম দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই চোখ জুড়িয়ে যায়। বাগানে সবুজ পাতার মাল্টা গাছে সবুজ রঙয়ের শত শত মাল্টা দোল খাচ্ছে। মাল্টা ছাড়াও বাগান জুড়ে রয়েছে বড়ই, পেয়ারা, লেবু, আমলকি, পেপে, জামবুড়া, কলাসহ বাহারি রকমের ফলের চারা। তবে সবচেয়ে বেশী রয়েছে বারি-১ জাতের মাল্টা চারা।

মিশ্র ফল বাগানের স্বত্বাধিকারী চাষী মো. জামির হোসেন প্রতিবেদককে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭ বিঘা জমিতে ২০২০ সালে মাল্টা চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগ হতে ৩শ মাল্টার চারা দিয়ে বাগানের যাত্রা শুরু। পরে কাটিং কলমের মাধ্যমে চারার পরিমান বৃদ্ধি করে বর্তমানে ৭শত এর অধিক বারি-১ জাতের মাল্টার চারা রয়েছে। তিনি আরোও বলেন, মাল্টার সাইজ ছোট হলে ৬/৭ টায় কেজি এবং সাইজ বড় হলে ৪ টায় কেজি। বাজারে পাইকারী প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং খুচরা প্রতি কেজি ৮০/১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে ৩ বার সার প্রয়োগ করতে হয়। টিএসপি,পটাশ, ইউরিয়া এবং বোরন সার একসাথে মিশিয়ে গাছের চার পাশের মাটিতে প্রয়োগ করতে হয়। গত বছরের তুলনায় গাছ বেশ বড় হওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত মোমরুজ খানের পূত্র

গাজীপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে সবুজ রঙয়ের বারি-১ জাতের মাল্টা গাছে মার্চ মাসের দিকে গাছে মুকুল আসে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফলন শেষ হয়। মাল্টা একটি লাভজনক ফল হওয়ায় কৃষকরা মিশ্র ফল বাগানে মাল্টা চাষ করে থাকে। লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রাসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে মাল্টার আবাদ করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে বারি-১ বা পয়সা মাল্টা জাতের পরিমান বেশী।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম খান প্রতিবেদককে জানান, গাজীপুর এর মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। গাজীপুর জেলায় ১০০ হেক্টর এর বেশি জমিতে মাল্টা চাষ রয়েছে ফল হিসেবে মাল্টা শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ফলে বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভাল ফলন সম্ভব। মাল্টা চাষের আধূনিক প্রযুক্তি বিষয়ে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।