Skip to content

Upcoming
United States
0-0
Australia
Source: ESPN

দীর্ঘ্য আঠারো বছর পর ভোট দেওয়া শেষে কর্মস্থলে ফেরা হলো না গার্মেন্স কর্মির জানাজা শেষ না হতেই আরেক দুর্ঘটনা, ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

নাটোর প্রতিনিধি

দীর্ঘ্য আঠারো বছর পর জীবনের প্রথম ভোট, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেওয়ার কর্মস্থলে ফেরা হলো না গার্মেন্স কর্মি শরিফলের। শুক্রবার বিকালে টিকিট কাউন্টারের সামনেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনায় স্থলে তার মৃত্যু হয়েছে। শরিফুরে ভোট দেওয়া শেষে স্ত্রী ও শিশু দুই সন্তানসহ ১৪ ফেব্রুয়ারী কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিলো কিন্তু তার আর কর্মস্থলে ফিরা হলো না । নিহত শরিফুল এর বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে।

তিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজীপুর টংগী  পাড়া একটি তৈরী পোষাক কারখানায় কাজ করতেন ।

এদিকে জানাজা শেষ না হতেই একই স্থানে আরেক ডেকোরেটর কর্মি শিমুল ট্রাকের চাপায় গুরুতর আহত হলে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এক দিনের ব্যবধানে দুটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের হয়বতপুর বাসষ্ট্যান্ডে শনিবার সকাল থেকে টানা দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে স্থানীয় জনতা । এর ফলে রাজশাহী, নাটোর, ঢাকাসহ উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ গামী বাস, ট্রাক, মালবাহী যানসহ সব ধরনের পরিবহন আটকা পড়ে। মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার ধরে যানজট তৈরি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের লোকজন এসে বিক্ষোভকারীদের দাবী মেনে  নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলর লক্ষীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত রহমত আলীর দরিদ্র পরিবারের জন্ম শরিফুলের। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে মাত্র পঞ্চম শ্রেনী পড়া-লেখা করে ঢাকা গাজীপুর, টংগী এলাকায় একটি তৈরী পোষাক কারখানায় প্রায় আঠারো বছর ধরে কাজ করে আসছিল শরিফুল। সেখানে স্ত্রী ও দুই শিশু – মুস্তকিন-৯ ও সাইম হোসেন-৪ বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  উপলক্ষে ছুটি পেয়ে  জীবনের প্রথম ভোট দিতে পরিবারসহ গত ১০ ফেব্রুয়ারীতে নিজ বাড়ি আসেন এবং পছন্দমত পার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে শরিফুল।  এই ভোটই তার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভোট ।  আর এম ট্রাভেলস নামে যাত্রীবাহী বাস হয়বতপুর বাসষ্ট্যান্ডে রং লেনে এসে  তাকে ধাক্কা দেয় এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে নিহত শরিফুলের জানাজা শেষ না হতেই আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে একই স্থানে অজ্ঞাত একটি ট্রাকের ধাক্কায় শিমুল (২৩) নামের এক ডেকোরেটার শ্রমিক যুবক গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ৭ টার দিকে স্থানীয়রা ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সড়ক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের আশ্বাসে সকাল ১০ টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

নিহত শরিফুলের মা নুরবানু বলেন, আমার ছেলে অভারে কারণে ব্যাটার বউ ও দুই নাতীকে নিয়ে ঢাকায় কাজ করে খায়, সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। আমার ছেলের ছোট্র দুইটা ছেলে আজ এতিম তাদের দেখাল কেউ নাই, তাই সরকারের কাছে বাদী এতিম দুই ছেলেটার জন্য যেন কোন কিছু করে এবং দেখে।

নিহত শরিফুরের স্ত্রী  মনিরা বেগম জানান, তার স্বামী শরিফুলের জীবনের প্রথম ভোট দিতেই গ্রামে আসছিল । শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে টিকিট কাটতে  হয়বতপুর বাসষ্ট্যান্ডে গেছিলো কিন্তু সে  টিকিট নিয়ে জীবিত ফিরে নাই।

ঢাকাগামী এতকা স্বানীয় বাস কাউন্টারের মাষ্টার  আ্ব্দুল আল মামুন বলেন, তিনি নিজ হাতে হয়বতপুর কাউন্টার থেকে এইচ থ্রি-ফোর টিকিট ১১শ ৬০ টাকায় বুকিং দিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের বাসে টংগীপুর ফেরার কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ জানলাম সে মারা গেছে। তার এ অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই ভুলতে পারছেন না।

নাটোর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, এখানে দুর্ঘটনার হওয়ার পর পর আমরা তাৎক্ষনিক এসেছি। আগের দিনের দুর্ঘটনায় একজন মারা গেছে আজ আরেকজন আহত হয়েছে। এখানকার স্থানীয়রা তাদের দাবী পজেটিভ, সড়ক প্রসস্ত করণ ও ডিভাইডার বৃদ্ধি করা সেই কাজটি আমরা করবো। তার আগে আপাতত স্পিড ব্রেকার দেওয়ার কাজ চলছে।