এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রাতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে এই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার র্যাম্পগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ। আর এখানে কেউ গাড়ি থামাচ্ছে কিনা বা কোনোধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কিনা; এসব বিষয় তদারকির জন্য বসানো হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা।
যান চলাচল শুরু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিলো। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয় একটি মামলা। তারপরই মাঠে নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথাতেও উঠে আসে নিরাপত্তার বিষয়গুলো।
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উত্তরার একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে একজন ব্যবসায়ী বাসায় ফেরার পথে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেন। টোল দেওয়ার পর তার গাড়ির চাকায় সমস্যা হওয়ার কারণে কিছুটা ধীর গতিতে এক্সপ্রেসওয়ে অতিক্রম করছিল। হঠাৎই তার প্রাইভেটকারকে চাপা দিয়ে মেরুন রঙের আরেকটি প্রাইভেট কার থেকে র্যাব পরিচয়ে গাড়ি থেকে দুজনকে এবং ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে যাওয়া ডাকাতরা। পরবর্তী সময়ে তাদের ৩০০ ফিটে ফেলে রেখে যায় ডাকাতরা এবং ৪৮ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইলের কাছে থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা লুটের উদ্দেশ্যে তাঁকে বাসের ভেতর হত্যা করা হয়।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহলের কোনও ব্যবস্থা নেই। এতে করে আতঙ্ক নিয়েই গাড়ি চলাচল করতে হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই পথের যাত্রীরা। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অপরাধের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় ব্যবহারকারীরা। এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা না মানায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁওয়ের এফডিসি ক্রসিং পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড সড়কে নিয়মিত পুলিশ টহল নেই। এই সড়কটি তাই রাতের বড় অংশই জনশূন্য হয়ে পড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইটও নেই। অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও সড়কবাতি স্থাপনের বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অগ্রগতির কথা জানায়নি। তারা কী কী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে, তা জানতে আমরা কয়েক দিনের মধ্যে নিজেরাই খোঁজ নেব।’
এনএনবাংলা/এফএস
