সাম্প্রতিক
Skip to content

ইশরাকের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মাদক বেচাকেনা, প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা-গাঁজা

ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের আলোচিত-সমালোচিত সেই ছবি।

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের ঘুণ্টিঘর এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের পরদিনও বদলায়নি পরিস্থিতি। রোববার বিকেলেও সেখানে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ ও কয়েকজন নারীকে দেখা গেছে মাদক বেচাকেনা করতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ২৪ ঘণ্টাই গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করলেও বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসা।

শনিবার বিকেলে দয়াগঞ্জের ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’

প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তি ও অসন্তোষ। এরই মধ্যে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরও সামনে আসে। তবে এসব ঘটনার পরও দয়াগঞ্জ-গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন মাদক স্পটে কেনাবেচা বন্ধ হয়নি।

২৪ ঘণ্টাই চলে মাদক বেচাকেনা

রোববার বিকেলে ঘুণ্টিঘর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত মানুষের আনাগোনা। তাদের মধ্যে কিশোর, যুবক, বৃদ্ধের পাশাপাশি কয়েকজন নারীও রয়েছেন। কেউ কাঠের বা প্লাস্টিকের বাক্স নিয়ে বসে আছেন, কেউ আবার প্যাকেট হাতে ক্রেতার অপেক্ষায়। তাদের কেউ কেউ পকেট থেকে কাগজের পুরিয়া বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, বিনিময়ে নিচ্ছেন টাকা।

এখানে মূলত গাঁজাই বেশি বিক্রি হতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরে মাদক কেনাবেচা আরও বেড়েছে। রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও সাধারণ মানুষকে ক্রেতা ভেবে ডাকাডাকি করেন মাদক বিক্রেতারা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় পথচারীদের।

এলাকার এক নারী মাদক বিক্রেতা জানান, প্রতি পুরিয়া গাঁজা বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। একজন খুচরা বিক্রেতা দিনে কয়েক হাজার টাকার মাদক বিক্রি করেন। আর যারা বড় চালান নিয়ে আসেন, তাদের বিক্রির পরিমাণ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওই নারী বলেন, ‘গাঁজা বিক্রি বন্ধ হইলে আমি এহানে থাকুম না। জামাই মাদক নিতে নিতে মরছে। পোলামাইয়্যাও এগুলান খাওন শিখেছে। এহন নিজেও বেচি, কি করমি কন, পেট তো চালান লাগবো।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ইশরাকের

শনিবারের অভিযানের সময় ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার বৈঠক করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রতিবারই পুলিশ জনবলসংকট ও গাড়ি না থাকার মতো বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছে।

ইশরাক আরও দাবি করেন, এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি ছোড়েন বলে তার হাতে অস্ত্র ছিল। তবে তিনি গুলি করেননি কিংবা কাউকে ভয় দেখাননি বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি।

আবারও মাদক কেনাবেচা, পুলিশের বক্তব্য কী?

ইশরাক হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা হওয়ায় পুলিশ প্রায়ই অভিযান চালায়। প্রতিবার অভিযানে ২০ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু পরে আবার সেখানে মাদক কেনাবেচা শুরু হয়।

ওসি বলেন, ‘মূলত স্থানটিতে ভাসমান লোকজন অনেক বেশি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমাদের তালিকায় যারা আছে, তাদের অধিকাংশকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তবে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ও প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি অভিযানের পরও ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক কেনাবেচা অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এনএনবাংলা/