Skip to content

Upcoming
Saudi Arabia
0-0
Uruguay
Source: ESPN

১৫ দিন বাবা-মায়ের সাথে গুলশানে থাকবে সেই দুই শিশু

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরানকে তাদের দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে গুলশানের একটি বাসায় আগামী ১৫ দিন একত্রে থাকার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই সময়ে ঢাকার সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্ট শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের বিষয়টি তদারকি করবেন। আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আলোচিত দুই শিশুর বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুই ধাপে শুনানির পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এসময় আদালত বলেন, ‘সব বিষয়ে শুনে বাচ্চাদের ভালো থাকার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই আদেশ দিচ্ছি।’

আদালতে শিশু দুটির মায়ের পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির ও শিশুদের বাবার পক্ষে অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ শুনানি করেন। শুনানির এক পর্যায়ে ওই দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাবার কাছে নাকি মায়ের কাছে থাকতে চায় সে বিষয়ে তাদের সাথে একান্তে কথাও বলেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতিদের খাস কামরায় প্রায় আধাঘণ্টা শিশুদের সঙ্গে কথা বলার পর আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বলেন, ‘আমরা চাই শিশুরা পারিবারিক পরিবেশে থাকুক। আপনারা সবাই বিষয়টি পজিটিভলি দেখুন।’

দুই মেয়েকে নিজের জিম্মায় পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট জাপানি নারীর করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে দুই মেয়েসহ তাদের বাবা ও ফুপুকে ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এছাড়া ওই দুই মেয়েকে নিয়ে বাবা আগামী ৩০ দিন বিদেশ যেতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। এরপর দুই মেয়েকে বাবার হেফাজত থেকে সিআইডি উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে। এ বিষয়টি গত ২৩ আগস্ট মেয়েদের বাবার পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রাখার নির্দেশ দেন। সে সময়ে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা শিশুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেন আদালত। সে অনুযায়ী বা-মা শিশুদের সাথে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সময় দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনজীবী আদালতে এসে জানান শিশুদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তখন আদালত উভয় পক্ষকে বলেন কোথায় থাকলে ভালো হয় সে বিষয়ে সমঝোতা করে সিদ্ধান্ত জানাতে।

আগের দেয়া আদেশ অনুযায়ী, দুই মেয়েসহ তাদের মা-বাবা এবং ফুফু আজ হাইকোর্টে উপস্থিত হন। এরপর দুপক্ষের আইনজীবীর শুনানি শুরু হয়। একপর্যায়ে আইনজীবীসহ দুই মেয়ে এবং তাদের মা-বাবা ও ফুফুকে খাস কামরায় ডেকে সবার বক্তব্য শোনেন আদালত।

শুনানির শুরুতে মায়ের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, শিশুদের মা ঢাকার বারিধারায় একটি বাসা ভাড়া করেছেন। আমরা চাই ওই বাসায় বাচ্চারা মায়ের সাথে থাকুক। বাচ্চাদের বাবাও তার মতো করে ওই বাসায় আসুক-থাকুক। কারণ, এই কদিনে বাচ্চাদের মধ্যে যে একটা ট্রমা তৈরি হয়েছে তা কাটুক। তারপর আপনারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আদেশ দেন।

তবে বাবার পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম শুনানিতে বলেন, বাচ্চারা বাবার বাসায় থাকুক। মা বাচ্চাদের দেখতে আসুক কোনো সমস্যা নেই। মা যে বাসাটার কথা বলছেন সে এরিয়ায় বাচ্চাদের থাকার বিষয়ে আমাদের আপত্তি আছে। শুনানিতে দুই পক্ষের এমন দ্বিমুখী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আদালত বলেন, আমরা চাই বাচ্চা দুটি পারিবারিক পরিবেশে থাকুক। আপনারা একটু পজিটিভলি ভাবুন।

এরপর বাবার পক্ষের আইনজীবী ফাওজিয়া আদালতকে বলেন, আমরা তাহলে আবার দুই পক্ষ একটু বসে সিদ্ধান্ত নিই। তারপর আপনাকে জানাই। আপনি তখন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এরপর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য বেলা ৩টায় সময় নির্ধারণ করেন।