Skip to content

LIVE 29'
Iran
0-1
New Zealand
Source: ESPN

আন্দোলনে গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ

আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আন্দোলন দমনে পুলিশকে পিআরবি (পুলিশ রেগুলেশনস অব বাংলাদেশ) অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদেশের পর রিটকারীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, রিট আবেদনটি খারিজ করেছে ঠিকই, তবে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে-এদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার আছে। সংবিধান অনুযায়ী ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন করার অধিকার, প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে।

পিআরবিতে যেসব নির্দশনা আছে, পুলিশ সেটা অবশ্যই ফলো করবে। পুলিশ রেগুলেশনে বলা আছে, এভাবে নির্বীচারে গুলি করা যাবে না। রিট খারিজ করা হলেও আমাদের যে চাওয়া ছিল, হাইকোর্টের আদেশে তা পূরণ হয়েছে।

কখন গুলি করা যাবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আইনে বলা আছে, কখনো কোথাও আগুন দিলে, আক্রমণ করলে, ডাকাতি করলে-এসব ক্ষেত্রে গুলি চালাতে পারবে।

কিন্তু শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাঙ্গামা দমন করতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট না পাওয়া গেলে, সেখানে উপস্থিত সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তারপরও গুলি চালাতে হলে মাইকিং করে জানাতে হবে। আর গুলি চালাতে হলেও এমনভাবে গুলি করতে হবে যাতে সর্বনিম্ন ক্ষতি হয়, যাতে প্রাণঘাতি আক্রমণ না হয়।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট রুলস অনুযায়ী এই রিট করতে পারে না। সেজন্য আদালত রিট খারিজ করে দিয়েছেন। তবে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, যে কেউ শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করতে পারবে। তবে প্রয়োজন হলে পিআরবি মেনে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এর আগে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ব্যবহার না করার নির্দেশনা চাওয়ার রিট আবেদনটি আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় তোলা হয়। রিট আবেদনটি আজকের কার্যতালিকার ১০ নম্বর ক্রমিকে ছিল। উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এর আগে গত ২৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। একইসঙ্গে রিট আবেদনে কোটা আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি এ রিট করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সেনাবাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

গত ২৯ ও ৩০ জুলাই রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজ রবিবার ফের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার অনীক আর হক, অ্যাডভোকেট মানজুর আল মতিন প্রীতম প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরসেদ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাছান চৌধুরী।

—–ইউএনবি